পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.

পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিট:cdnb.artstation.com


পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.


আন্টি-শিপ ক্রুশ মিসাইল নামটি দুটি শব্দ মিলিতো হয়ে একটি নাম গঠন করেছে আন্টি-শিপ এবং ক্রুশ মিসাইল যেখানে আন্টি-শিপ মিসাইল গুলি এমন ভাবে Sea Skimming ডিজাইন করা থাকে যেখানে এই মিসাইল সমুদের উপর দিয়ে চলা ছোটো বড়ো যেকোনো রকমের জাহাজ, বোট টার্গেট করে ডেস্ট্রয় করতে সক্ষম। 


ক্রুশ মিসাইল এটি মূলত ভূমির বা স্থল ভাগের উপর যেকোনো টার্গেটের প্রতি ব্যাবহার করা হয় এনিমিকে  Neutralize করার জন্য, ক্রুশ মিসাইল প্রধানতঃ তিন রকমের SUBSONIC,SUPERSONIC, এবং HYPERSONIC.


অনেকেই ক্রুশ মিসাইলব্যালাস্টিক মিসাইল দুইটিকে গুলিয়ে ফেলে কারণ দুটোই শত্রুর ভূমির বা স্থল ভাগের উপর আক্রমণ চালাতে সক্ষম যেখানে ক্রুশ মিসাইল বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে ট্রাভেল করে বা তারও নিচে দিয়ে উড়ে যায় নিজেকে শত্রুর রাডারের থেকে বাঁচানোর জন্য এবং পিন-পয়েন্ট একুরেট বানানো হয় শত্রুর একটি নির্দিষ্ট জায়গায়কে ডেস্ট্রয় করার জন্য ঠিক তার উল্টো ভাবে কাজ করে ব্যালাস্টিক মিসাইল বায়ুমন্ডলের উপর দিয়ে ট্রাভেল করে এবং শত্রুর অনেক বড়ো অংশ টার্গেট করতে এই রকমের মিসাইল ব্যাবহার করা হয় যেমন একটি বড়ো শহর,রাজ্য তাই এগুলির পিন-পয়েন্ট একুরেসি ততটা মেইনটেন করা হয় না।   


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রথম Anti-Ship মিসাইলের ব্যবহার করা হয় এবং যেটির উন্নয়ন করেন নাত্সি জার্মান নেভি ১৯৪৩ থাকা ১৯৪৪ মধ্যে ভুমধ্য সাগরে জার্মান নেভি তার প্রতি-পক্ষের উপর Anti-Ship মিসাইল ব্যবহার করা শুরু করে এবং শত্রুর নেভাল এসেটর উপর হেভি ড্যামেজ দিতে সক্ষম হয় যেখানে ৩১ থেকে ৩৫ জাহাজ ধ্বংস করে দেয় নাৎসি নেভি তখন থেকে এই রকমের মিসাইলের ব্যবহার শুরু করাহয়। 


আরো পড়ুনঃ ভারতের AKASH-NG এয়ার ডিফেন্স শত্রুর হুমকির জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ। AKASH-NG New Challenge For Enemy Thereat.



Harpoon [হারপুন]

পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিটঃ en.wikipedia.org

আমেরিকান কোম্পানি ম্যাকডোনাল ডগলাসের তৈরি এই সাবসনিক এন্টি-শিপ মিসাইলটি ১৯৭৭ প্রথম সার্ভিসে আনা হয় এবং এখনো পর্যন্ত এটার ৭৫০০+ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে এবং সর্বমোট ৩২ টি দেশের নেভি,কস্টগার্ড ও এয়ার ফোর্স তাদের ফ্লিটে ব্যাবহার করে এন্টি-শিপ রোলে এই মিসাইলটি। 

এটার রেঞ্জ সব থেকে বড়ো ড্রওবেক ২৮০ কিলোমিটার, যারা [MTCR] মেম্বার দেশ না তারা বেশি সুবিধা পায় কারণ MTCR স্বাক্ষরকারী দেশ না হলে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি কোনো রকমের মিসাইল বিক্রি, হস্তান্তর করা যাবে না।   

এই সাবসনিক মিসাইলটির স্পিড ০.৭ ম্যাক তাই এটা খুব দ্রুত ম্যানুভার করতে যেমন সক্ষম, তেমনি এটার স্পিড বড়ো কারণ শিপ বেসড এয়ার ডিফেন্সের হাতে NEUTRALIZE হবার, তাই যেই অঞ্চলে এয়ার ডিফেন্স কম সেখানে এই মিসাইল খুব কার্যকারী।    



Tomahawk [টমাহক]


পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিট:en.wikipedia.org

টমাহক আমেরিকার একমাত্র সাবসনিক মিসাইল যেটির রেঞ্জ ২৫০০ কিলোমিটার এবং একটি সময় যখন আমেরিকান ও ব্রিটিশ রয়েল নেভির একটি মাত্র ভরসা যোগ্য মিসাইল ছিলো ল্যান্ড-এটাক করার জন্য আমেরিকান ও রয়েল নেভির ফিলিটে।    

টমাহক ১৯৭০ সালে প্রথম ডেভলপ করা শুরুকরে অনেক পরীক্ষ-আপগ্রেডেশনের পর এটাকে একটি Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল পরিবর্তন করা হয়। 

টমাহক একটি যুদ্ধ-প্রমাণিত মিসাইল এবং গালফ যুদ্ধের সময় আমেরিকা এটার ব্যাবহার খুবই তীব্র ভাবে করেছিলো এবং আপনি যদি ডিফেন্স রিলেটেড খবরে চোখ রাখেন তাহলে জানবেন কিছু বছর আগে আমেরিকা সিরিয়ার ক্যামিক্যাল ফ্যাক্টরিতে এটার মাধ্যমে এটাক চালিয়ে ছিলো এবং আমেরিকান সমস্ত ডেস্ট্রয়ার,ফ্রিগেট, ও ক্রুসার মধ্যে সর্বদা রেডি টু এটাক মোডে এই মিসাইল থাকে। 



Kalibar [ক্যালিবার] 


পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিটঃ en.wikipedia.org

ক্যালিবার রাশিয়ার তৈরি একটি এন্টি-শিপ ক্রুশ মিসাইল যেটি একটি আমেরিকার তৈরি টমাহক মিসাইলের সমতুল্য এবং এটি আমেরিকান মিসাইলের থেকে অনেক বেশি নতুন ফিচার দ্বারা সমৃদ্ধি একটি মিসাইল এক কথায় হাইব্রিড মিসাইল বলা চলে। 


ক্যালিবার একটি সাবসনিক ও সুপারসনিক মিসাইলের সংমিশ্রণ যেমন এটি লাঞ্চ করা পর সমস্ত পথ সাবসনিক গতিতে আসে মানে নিজের রাস্তা পরিবর্তন করতে পারে এবং রাডার ফাঁকি দিয়ে খুব নিচে দিয়ে উড়তে পারে কিন্তু ঠিক টার্মিনাল স্তরে মানে টার্গেটের কাছে আসে এটা সুপারসনিক গতিতে আঘাত হানে। 


এটার রেঞ্জ ২৫০০ কিলোমিটার এবং ভারতিয় নেভির প্রতিটি তলোয়ার ক্লাস ফ্রিগেটে এটা যুক্ত করা থাকে এবং ভারতের এটাক সাবমেরিন INS CHAKRA তেও এই মিসাইল রেডি টু লাঞ্চ মোডে থাকে। 



BRAMOS [ব্রামস]

পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিটঃ en.wikipedia.org


ব্রামস ভারত ও রাশির পাটনারশিপে তৈরি একটি মিসাইল যেটি রাশির P800 ONIK উপর বেস করে বানানো প্রথমে এটির রেঞ্জ ছিলো ২৯০ কিলোমিটার কারণ ভারত MTCR আরের মেম্বার ছিলোনা তাই রাশিয়া এই এই রকমের কোনো টেকনোলজি ভারতকে দেয়নি পরে এটির রেঞ্জ বাড়িয়ে ৪০০ কিলোমিটার করা হয়। 


ব্রামস একটি রেমজেট প্রপালসন সিস্টেম ইঞ্জিন ব্যবহার করে যার ফলে এটির স্পিড ৩.০ ম্যাক এবং যেটি কোনো এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সহজে NEUTRALIZE করতে সক্ষম না তাছাড়াও ব্রামস প্রথিবীর সব থেকে দ্রুততম ক্রুশ মিসাইল এখনো পর্যন্ত এর সমতুল্য কোনো ক্রুশ মিসাইল আমাদের দুই প্রতিবেশী প্রস্তুত করে উঠতে পারেনি। 


এটা বিভিন্ন রকমের গাইডেন্স সিস্টেম ব্যাবহার করার জন্য এটা জ্যাম করা একবারেই অসম্ভব সঙ্গে এটা সমুদ্র পৃষ্ট থেকে মাত্র ১০ মিটার উচ্চতা দিয়ে উড়ে যেতে পারে তাছাড়াও S ম্যানুভার করে CIWS থেকে বাঁচতেও পারে এবং সঠিক  টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম এটার আকুরেসি ধরা হয় ১ মিটার CEP তাই এটি খুবই ডেডলি একটি মিসাইল এবং একটি অনন্য SEA SKIMMING মিসাইল বলে ধরা হয় অন্য সমস্ত মিসাইলের তুলনায়।


কিন্তু একটি বড়ো সমস্যা হচ্ছে প্রত্যেকটি ইউনিটের দাম ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাছাড়াও ব্রামস আকারে অনেক বড়ো ভারী তাই এটি শুধু মাত্র ভারত মহাসাগরে চীনা নেভি ও তার এয়ার ক্র্যাফট ক্যরিয়ারে প্রতি ব্যবহারের জন্য যুগপোযোগী হবে বলে ধরা হয়, রাশিয়া বেস ভার্সনটিও ডেভলপ করার উদেশ্যছিলো আমেরিকান নেভির প্রাইম টার্গেট তাদের এয়ার ক্র্যাফট ক্যরিয়ারে প্রতি ব্যবহার করা। 



3M22 Zircon [জিরকন]


পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিটঃ missiledefenseadvocacy.org

জিরকন রাশিয়ার তৈরি একটি অত্যাধুনিক এই হাইপারসনিক মিসাইলট এটি দক্ষ এন্টি-শিপ ও আন্টি সারফেস রোল কার্য পরিচালনা করার জন্য এবং পৃথিবীতে একটি দেশের হাতে একটিভ হাইপারসনিক মিসাইল আছে এবং এটার প্রপালসন সিস্টেম হিসাবে লিকুইড স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে যেটা এই মিসাইলটিকে ৯.০ম্যাক স্পিড প্রদান করেন তাই একটি শত্রুর এয়ার ডিফেন্স কোনো ভাবেই এটাকে আটকাতে পারে না। 


আমেরিকান ডিফেন্সে এনালিস্টদের মতে এটাকে ডিফেন্ড বা কাউন্টার করা যায় শুধু Direct Energy Weapons আর মাধ্যমে তাই আমেরিকার সরাসরি এই মিসাইল একটি মাথা ব্যাথার কারণ, তাছাড়াও এই মিসাইল ওড়ার সময় একটি Plasma Cloud তৈরি করে যেটা শত্রুর পক্ষ থেকে সমস্ত রাডার তরঙ্গ শুষে নেয় তাই এটাকে ডিটেক্ট করা একে বারেই অসম্ভব আর যদিও ডিটেক্ট করা যায় তাহলেও অনেক লেট হয়ে যায়। 


আমেরিকান কোম্পানি বোয়িং একই রকমের ঠিক একটি মিসাইল রেডি করছে আমেরিকান নেভির জন্য যেটার নাম X-51 WAVERIDER.


পৃথিবীর 5টি বেস্ট Anti-Ship ক্রুশ মিসাইল। Best Anti-ship Cruise Missile.
ক্রেডিটঃ missiledefenseadvocacy.org

ঠিক একই ভাবে ভারতের DRDO ও রাশিয়ার NPOM সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্রামস-II নামক একটি HYPERSONIC মিসাইল তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং যেটার প্রপালসন সিস্টেম হিসাবে স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। 


Post a Comment

0 Comments