K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.

K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.
Cradit:jagran.com

K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের  ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.

আপনারা খবরের কাগজে পড়লেই বা খবর দেখলেই জেনে থাকবেন DRDO ২০২০ শেষ মাসের প্রত্যেক সপ্তায় নতুন নতুন মিসাইল টেস্ট করেছে এবং আশা করা যাচ্ছে ২০২১ প্রথম থেকেই আরো অনেক মিসাইল টেস্টিং করা হবে এগুলির মধ্যে একটি অন্যতম নাম হচ্ছে K-SERIES মিসাইল যা আমাদের প্রাক্তন ISRO সায়েন্টিয়েস্ট DR. APJ কালামের নাম অনুযায়ী এটার নাম রাখা হয় KALAM অর্থাৎ K সিরিজ মিসাইল।


এবার জানাযাক এটা কিভাবে ভারতকে দৃতীয় ডেটারেন্স ক্ষমতা প্রদান করে সমুদের নিচে লুকিয়ে  থেকে যদি ভারতের প্রধান ভূমি আঘাত প্রাপ্ত হয় বাইরের কোনো শত্রু পক্ষের দ্বারা নিউক্লিয়ার অস্ত্রের মাধ্যমে, আপনারা সবাই জানেন ভারত একটি শান্তির দেশ কোনো দিনও বাইরের কোনো দেশের প্রতি আগ্র্রেশন দেখায়নি কিন্তু আমাদের পড়শি দুটি দেশ বিভিন্ন কারণে আমাদের প্রতি আগ্র্রেশন দেখিয়েছে এবং ৫ বড়ো এবং অসংখ ছোটো যুদ্ধ আমরা লড়েছি এগুলির মধ্যে ৪ টি পাকিস্তানের সঙ্গে এবং ১টি চীনের সঙ্গে।


আমরা সর্বদা “Non first Strike” nuclear policy মেনে চলি কিন্তু বর্তমানে আমাদের দুই পড়শি দেশ এমন কোনো নীতি মানে না এবং এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এরই ফলস্বরূপ বিগত কিছু মাস আগেই লাদাখে চীনের সৈনিকদের বর্বরতা ভুলে যাবার মতো নয়, বা বালাকোটের ঘটনা যদিও এটার যোগ্য জবাব দিলেও শত্রু তাদের নিউক্লিয়র অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না। 

বা যদি এনেমি তাদের নিউক্লিয়র অস্ত্র  মাধ্যমে আমাদের ওপর আঘাত হানতে সক্ষম হয় এমত অবস্থায় আমাদের সেকেন্ড স্ট্রাইকের ক্ষমতা [second strike capability] রাখতেই হবে। 


কোনো ভারতের জন্য সেকেন্ড বা দৃতীয় স্ট্রাইক এতটাই গুরুত্বপূণ সমগ্র দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়াতে শান্তি ও স্থিতি জন্য ?

এখনো পর্যন্ত পৃথিবী অনেক ছোট থেকে বড়ো যুদ্ধের সাক্ষী থেকেছে তারই মধ্যে প্রথম এবং দৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ ছিলো পৃথিবীর বুকে অন্যতম যেখান কয়েক লক্ষ সৈনিক অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের জীবন বলিদান দিয়ে ছিলেন তাদের দেশকে জেতানোর জন্য। 


কিন্তু দৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের একটি ঘটনা মানুষকে আজও মনে করিয়ে দেয় কিভাবে জাপান ধ্বংস লীলার শিকার হয়ে ছিলো আমেরিকার পার্লহার্বারে আক্রমণ করার জন্য এবং ঘটনাটি জন্য জবাব হিসাবে জাপানের দুটি শহরের উপর আমেরিকা পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করেছিলো প্রতিশোধ নেবার জন্য।  


তার পরেও আমেরিকা এবং রাশিয়া অনেক বার মুখো-মুখী হয়েছে এবং ঝামেলায় জড়িয়ে পরে যেটাকে আমরা cold war বা ঠান্ডা যুদ্ধ বলি আবার proxy war ও লড়েছে অন্য দেশের মধ্যে কিন্তু সরাসরি কোনো বড়ো যুদ্ধ অংশ গ্রহণ করেনি কারণ এই পরমাণু অস্ত্র। 


দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার দুটি অর্থনৈতিক ও তিনটি সামরিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র বিভিন্ন কারণে দ্বন্ধের মধ্যে থাকে এবং তিনটি রাষ্ট্র পরমাণু ক্ষমতাধর তাই দ্বিতীয় আঘাত করার ক্ষমতা থাকলে অন্য রাষ্ট্র ভয় পাবে সঙ্গে আমাদের সুবিধা হবে কারণ, আমাদের প্রধান ভূমি বা Main land আক্রান্ত হলেও সমুদ্রের নিচে সব সময় নিউক্লিয়ার সাবমেরিন দৃতীয় আঘাত করার জন্য বসে থাকবে ফলে এনিমি কোনো প্রকার Misadventure করতে সাহস পাবে না একই সঙ্গে  নিউক্লিয়ার সাবমেরিন  খুবই ছোট তাই এটাকে সমুদের কোথায় আছে সনাক্ত করা যাবে না। 



K-SERIES মিসাইলের কাজ ৯০ এর দশকে শুরু হয়, যেখান প্রস্তাব দেয়া হয় submarine-launched ballistic missiles যেগুলি Arihant ক্লাস সাবমেরিন গুলি থেকে ছোড়া হবে এবং এটার তৈরি করার দায়িত্ব পান ভারতের DRDO এবং [BMD] প্রজেক্টের অন্তরগত এই মিসাইল গুলি বানানোর পরিকল্পনা নেয়া হয় । 


ভারতের আরো অন্য সমস্ত ব্যালাস্টিক মিসাইল গুলির মতো এগুলির কোনো তথ্য পাওয়া যায়না কারণ এই প্রজেক্টটি খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে চুপিসাড়ে তৈরি করা হয়েছে, কারণ আলটিমেট এটা ভারতের সেকেন্ড স্ট্রাইক করার ক্ষমতা  রাখে যেকোনো সময় যেকোনো আবহাওয়ায় শত্রু ওপর।  

 K-SERIES মিসাইল:

  1. K-15 SAGARIKA
  2. K-4 Missile.
  3. K-5 Missile.
  4. K-6 Missile.



1. K-15 Sagarika[সাগরিকা]


এই সিরিজের সব থেকে প্রথম মিসাইল যেটার রেঞ্জ ধরা হয়ে থাকে ৭৫০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটার এবং এই মিসাইলের ওজন কম করেও ৬ থেকে ৭ টন এবং ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতা ১ টন যেটা এবং ২০১৮ ভারতীয় নেভিতে মোতায়ান করা হয়, ২০০১ তে এই মিসাইল গুলি লঞ্চ করার জন্য সাবমেরিনার লঞ্চার ডেভলোপে করা হয়ে ছিলো। 
২০০৮ তে এটার প্রথম ট্রাইল শুরু হয় vizage তে এবং ২০০৯ তে আরিহান্ট ক্লাস সাবমেরিন গুলিতে এই মিসাইল লাগিয়ে ট্রায়াল করাহয় এবং এরই মধ্যে আরো অনেক ট্রায়াল করা হয় এবং ২০১৩ এটার ট্রায়াল পিন-পয়েন্ট বস্তুতে আঘাত হয় এবং তার পর প্রোডাকশনের জন্য তৈরি করা হয়। 



K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.
Cradit:wikipedia.org


২. K-4 Missile. 

K-4 মিসাইল এটা রেঞ্জ এবং ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা K-১৫ সাগরিকার থেকেও অনেক বেশি একই সঙ্গে এটা ৩৫০০ কিলোমিটার দূরুত্ব পারি দিতে সক্ষম কিন্তু এটার ওজন ২০ টন কিন্তু এটার ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতা সাগরিকা মিসাইলের থেকেও বেশি ২.৫ টন। 

মিসাইলটি একটি দুই স্টেজ বিশিষ্ট মিসাইল যেটা K-সাগরিকা মতো এক স্টেজ বিশিষ্ট নয়, এই মিসাইলটি ২০১৭ তে অনেক ট্রায়াল করা হয়,সঙ্গে অনেক টেস্ট এবং ট্রায়াল বন্ধ করতে বাধ্য হয় DRDO বিভিন্ন ত্রুটির কারণে কিন্তু লাস্ট দুটি টেস্ট ১৯ এবং ২৪ জানুয়ারি যথাক্রমে সফল হয় এবং এটা এখন উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। 


K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.
Crdit:freepressjournal.in

৩. K-5 Missile. 

বড়ো দুরুত্বের K-৫ মিসাইল ৫০০০ কিলোমিটার DRDO দ্বারা এখনো ডেভলোপমেন্টাল স্টেজে আছে এখনো এই মিসাইল সমন্ধে তেমন একটা ইনফরমেশন পাওয়া যায় না তাহলেও এটার ওয়ারহেড ১ টন নিউক্লিয়ার পেলোড বহনে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে এবং এটা MIRV টেকনোলজি বিশিষ্ট একটি মিসাইল হবে বলে জানা যাচ্ছে। 


৪. K-6 Missile. 

k-৬ মিসাইল এখনো টেস্টিং ও ডেভলোপমেন্টাল অবস্থায় আছে যেটাও একটি k-৫ মিসাইলের মতো  MIRV টেকনোলজি বিশিষ্ট মিসাইল হতে চলেছে যার রেঞ্জ হবে ৬০০০ কিলোমিটার বা তারও বেশিই সঙ্গে ২ থেকে ৩ টন ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম হবে। 


 MIRV [Multiple Independent Reentry Vehicle]  টেকনোলজি কি ?


K-৫ বা K-৬ মিসাইল জানতে হলে আগে জানতে হবে MIRV টেকনোলজি কি এবং কোনো এটা এতটা ভয়ঙ্কর, ধরুন একটি মিসাইল আছে যেটার ওয়ারহেড আরো একটি মিসাইল এবং যদি আমরা একটির বদলে অনেক ছোটো ছোটো মিসাইল রাকি তাহলে এটা একটি শক্তি ব্যাবহার করে এনিমির অনেকটা জায়গা জুড়ে আঘাত করতে সক্ষম হবে। 

এই রকম টেকনোলজি আমেরিকা প্রথম সার্ভিসে আনে তাদের মিনিটম্যান-৩ মিসাইলের মাধ্যমে যেটা একটি ICBM [INTER CONTINENTAL BASALTIC MISSILE] পরে যথাক্রমে রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন, ইসরাইল এই রকম টেকনোলোজি ক্ষমতা অর্জন করেন। 



K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.
Cradit:wikipedia.org




এটার সুবিধা হচ্ছে যখন এই রকম ছোটো অনেক ওয়ারহেড একটি সঙ্গে এটমোস্ফিয়ার থেকে লঞ্চ করা হবে তখন এটার গতি খুবই বেশিই থেকে তাই এটা এনিমির AIR DEFENSE সিস্টেম এটাকে সহজে নিউট্রাল করতে পারে না। 
 

K-SERIES মিসাইল কিভাবে ভারতকে দৃতীয় আঘাতের ক্ষমতা প্রদান করে সমুদ্র থেকে। - All About K-Series Missiles deterrence Capability Below The Sea.
Cradit:wikipedia.org

যদি ভারতের কোনো নিউক্লিয়ার সাবমেরিন এই রকমের মিসাইল নিয়ে এনিমির সমুদ্র সীমানায় ঘাঁটি গাড়ে তাহলে এনিমি আপনাকে কোনো দিন নিউক্লিয়ার অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার কথা স্বপ্নেও ভাববেনা কারণ এই সাবমেরিন সব সময় রেডি থাকে এনিমিকে যোগ্য জবাব দেবার জন্য তারই নাকে ডগায় যদি ভারতে প্রধান ভূমি আঘাত প্রাপ্ত হবার সত্বেও যেটাকে বলা হয় সিকোলোজিক্যাল ওয়ার ট্যাক্টিক্স। 

Post a Comment

0 Comments